স্যার হিচকক

পুরো নাম- Alfred Joseph Hitchcock জন্ম- ১৩-ই আগস্ট ১৮৯৯ লেটোন্সটোন, এসেক্স, ইংল্যান্ড। মৃত্যু- ২৯ এপ্রিল ১৯৮০ বেল এয়ার, ক্যালিফোর্নিয়া, ইউ এস। একজন ইংরেজ চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন। মাত্র ২০…

Source: স্যার হিচকক

স্যার হিচকক

220px-Hitchcock,_Alfred_02
পুরো নাম- Alfred Joseph Hitchcock
জন্ম- ১৩-ই আগস্ট ১৮৯৯ লেটোন্সটোন, এসেক্স, ইংল্যান্ড।
মৃত্যু- ২৯ এপ্রিল ১৯৮০ বেল এয়ার, ক্যালিফোর্নিয়া, ইউ এস।
একজন ইংরেজ চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি চলচ্চিত্রকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লন্ডনের খ্যাতনামা প্যারামাউন্ট স্টুডিওতে তিনি চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও শিল্প নির্দেশনার ওপর শিক্ষা নেন। এবং ১৯২২ সালে সহপরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই বছরই হিচকক নাম্বার ১৩ বা মিসেস পিবডি নামে একটি ছবি পরিচালনা করেন। যদিও ছবিটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। পরিচালক হিসেবে তিনি সম্পূর্ণরূপে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯২৫ সালে দ্য প্লেজার গার্ডেন ছবির মাধ্যমে। পরের বছরে দ্য লজ ছবির মাধ্যমে হিচকক মূলত তার স্বকীয় ধারার সূচনা করেন। ছবির প্লটটা এরকম : গল্পের মূল চরিত্র যে নির্দোষ একটি মিথ্যা খুনের মামলায় জড়িয়ে যায় এবং ক্রমশই ষড়যন্ত্রের জালে আটকে পড়ে। এই ছবিগুলো কিন্তু সবই নির্বাক। হিচককের প্রথম সবাক ছবি হলো ব্ল্যাকমেইল (১৯২৯), তবে হিচকককে যে ছবিটি ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে আসে এবং একই সাথে বাণিজ্যিক সফলতাও পান সেটি হলো “দ্য ম্যান হু নিউ টু মাচ” (১৯৩৪)। ১৯৩৯ পর্যন্ত তিনি একের পর এক পাঁচটি ছবি বানান। এরপর তিনি চলে যান হলিউডে। স্বদেশে নির্মিত তার শেষ ছবিটি ছিল “জ্যামাইকা ইন” (১৯৩৯), হলিউডে নির্মিত প্রথম ছবি দিয়েই হিচকক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। আর সেটি হলো ড্যাফনে ডু মরিয়ের’র উপন্যাস অবলম্বনে “ রেবেকা ” (১৯৪০)।
ছবিই তুমুল জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে সারাবিশ্বে থ্রিলার চলচ্চিত্রকার হিসেবে খ্যাতিমান করে তোলে। চলচ্চিত্রকার হিসেবে খ্যাতিমান করে তোলে। যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র ইন্ড্রাস্টিতে তিনি নির্বাক ও সবাক দুইধরনের চলচ্চিত্র নির্মান করেই সাফল্য পেয়েছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডের শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে সাফল্য পাওয়ার পর ১৯৩৯ সালে তিনি ইংল্যান্ড থেকে হলিউডে চলে আসেন এবং তিনি ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ছয় দশকের ফিল্মি ক্যারিয়ারে তিনি পঞ্চাশটিরও অধিক ফিচার চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। অনেক ছবি তিনি নিজেই প্রযোজনা করেছেন। হিচককের ছবি সাসপেন্স ও ফ্যান্টাসিতে যেমন ভরা তেমনি রসবোধ এবং বিদ্রুপেও কম যায় না। আর তার ছবি টেকনিক ও সিনেমাটোগ্রাফির জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ভার্টিগো ছবিতে তিনি যে ক্যামেরা টেকনিক ব্যবহার করেছেন পরবর্তী সময়ে বহু চলচ্চিত্রকাররা সেটি অনুসরণ করেছেন, যেটিকে বলা হয় ‘হিচকক জুম’, হিচককের কাজের ধারা এমনই পৃথক ও স্বকীয় ছিল যে প্রচুর চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, অভিনেতা-অভেনেত্রীরা তার চলচ্চিত্র দেখে উজ্জীবিত হয়েছেন, শিখেছেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ হিচকক জীবনে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। অস্কার নমিনেশনে অনেকবার তিনি বেস্ট ডিরেক্টরের পুরস্কার পান। ছবিগুলো হলো “সাইকো” (১৯৬০), “রেবেকা” (১৯৪০), “লাইফবোট” (১৯৪৪), “স্পেলবাউন্ড” (১৯৪৫), “রিয়ার উইন্ডো” (১৯৫৪), এবং বেস্ট পিকচারের পুরস্কার পায় তার “ফরেন করেসপন্ডেন্ট” ও “স্পেলবাউন্ড।” এছাড়াও ১৯৮০ সালে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ কতৃক তিনি “নাইট” উপাধি লাভ করেন।
অ্যালফ্রেড হিচকক পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার দীর্ঘ পরিচালনা জীবনে নিজের জন্য পরিচালনার সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও জনপ্রিয় একটি ধারা তৈরি করেছেন। উদ্বেগ, ভয়, কল্পনা অথবা সহানুভূতির অভিব্যক্তি বাড়িয়ে দিয়ে তিনি শটকে এমন ভাবে ফ্রেমবন্দি করতেন ও সম্পাদনা করতেন যা সম্পূর্ন ছবিকে এক অন্যন্য মাত্রায় উপস্থাপন করত। তার চলচ্চিত্রের অধিকাংশের কাহিনীতেই নারী চরিত্র পাওয়া যায় যারা পুলিশের কাছ থেকে সবসময় পালিয়ে থাকে। হিচককের বহু ছবির সমাপ্তি ঘটেছে মিশ্র ঘটনার মধ্য দিয়ে এবং রোমহর্ষক প্লটগুলো চিত্রায়িত হয়েছে ভায়োলেন্স, খুন এবং অপরাধের ঘটনা দিয়ে।
অ্যালফ্রেড হিচকক ইংল্যান্ডের লন্ডনে এক রোমান ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৩ আগস্ট। বাবা-মায়ের দ্বিতীয় পুত্র সন্তান ছিলেন তিনি । তার স্কুল এবং কলেজ ছিল জিসুইট ক্লাসিক স্কুল সেন্ট ইগনাতিয়াস কলেজ ও সালেসিয়ান কলেজ।তাঁর মা ও পিতামহী ছিল আইরিশ বংশভূত। প্রায় পাঁচ বছর বয়সে, তার বাবা তার খারাপ ব্যবহারের জন্যে নিকটবর্তী থানা পুলিশের কাছে প্রেরণ করেন তাকে পাঁচ মিনিট বন্দী করে রাখার জন্যে। আর অল্প বয়সের এরকম অদ্ভুত পরিস্থিতিই পরবর্তীকালে তার সিনেমাজুড়ে আতঙ্ক, সাসপেন্স এ ব্যাপারগুলোকে বেশি আনতে আগ্রহী করে তুলে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর তিনি লন্ডন কাউন্টি স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড নেভিগেশন এ যান সেন্ট ইগনাতিয়াস ছেড়ে। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ড্রাফটসম্যান এবং অ্যাডভারটাইজিং ডিজাইনার হিসেবে ক্যাবল কোম্পানি “হেনলি”তে কাজ করেন। ১৯১৯ সালে হেনলি টেলিগ্রাফ প্রতিষ্ঠিত হয় আর তার প্রথম সংকলনে প্রকাশিত হয় তার লেখা “গ্যাস” , যেখানে অল্পবয়সী এক নারীকে তার লেখা আবর্তিত হয় । তার পরবর্তী লেখার নাম ছিল “দ্য ওমেন পার্ট”, এটাও একই সালে প্রকাশিত হয় একই পত্রিকায়। এখানে একজন স্বামী ও তার স্ত্রীর মাঝে সাংঘর্ষিক জীবনের কথা ফুটে উঠে। এছাড়া “সরদিদ”, “এন্ড দেয়ার ওয়াজ নো রেইনবো” এর মত লেখাও তিনি লিখেছেন। তার সর্বশেষ লেখা ছিল “ফেডোরা” , যেখানে তিনি বলতে চেয়েছেন তার ভবিষ্যৎ স্ত্রী কেমন হবে তা নিয়ে। ১৯২০ সালের দিকে এসে অ্যালফ্রেড হিচকক আগ্রহী হয়ে উঠেন ফটোগ্রাফি এবং চলচ্চিত্রের প্রতি। তিনি লন্ডনে ফিল্ম প্রোডাক্টশনে কাজ করা শুরু করেন। “প্যারামাউন্ট পিকাঁচার”র লন্ডন শাখায় তিনি টাইটেল কার্ড ডিজাইনার হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর তিনি “ইসলিংটন স্টুডিও”তে কাজ করেন। এরপর টাইটেল কার্ড ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে করতে চিত্রপরিচালক তিনি আত্নপ্রকাশ করেন।
স্যার Alfred Hitchcock এর ফিল্মোগ্রাফী-
• নাম্বার ১৩ (১৯২২) (অসম্পূর্ন)
• অলওয়েজ টেল ইউর ওয়াইফ (১৯২৩) (অসম্পূর্ন)
• দ্য প্লেজার গার্ডেন (১৯২৫)
• মাউন্টেইন ঈগল (১৯২৬) (হারিয়ে গিয়েছে)
• দ্য লুজার: অ্য স্টোরি অফ দ্য লন্ডন ফগ (১৯২৭)
• দ্য রিং (১৯২৭)
• ডাউনহিল (১৯২৭)
• দ্য ফার্মার’স ওয়াইফ (১৯২৮)
• ইজি ভার্চ্যু (১৯২৮)
• চ্যাম্পেগেন (১৯২৮)
• দ্য ম্যানাক্সম্যান (১৯২৯)
• ব্ল্যাকমেইল (১৯২৯)
• জুনো অ্যান্ড দ্য পেকক (১৯৩০)
• মার্ডার! (১৯৩০)
• এল্সট্রি কলিং (১৯৩০)
• দ্য স্কিন গেইম (১৯৩১)
• ম্যারি (১৯৩১)
• রিচ অ্যান্ড স্ট্রেইঞ্জ (১৯৩১)
• নাম্বার সেভেনটিন (১৯৩২)
• ওয়েলজেস ফ্রম ভিয়েনা (১৯৩৩)
• দ্য ম্যান হু নু টু মাচ (১৯৩৪)
• দ্য ৩৯ স্টেপ্স (১৯৩৫)
• সিক্রেট এজেন্ট (১৯৩৬)
• স্যাবোটেজ (১৯৩৬)
• ইয়াং অ্যান্ড ইনোসেন্ট (১৯৩৭)
• দ্য লেডি ভ্যনিশেস (১৯৩৮)
• জ্যামাইকা ইন (১৯৩৯)
• রেবেকা (১৯৪০)
• ফরেইন কারেসপন্ডেন্ট (১৯৪০)
• মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ (১৯৪১)
• সাসপিশন (১৯৪১)
• স্যাবোটিয়ার (১৯৪২)
• শ্যাডো অফ এ ডাউট (১৯৪৩)
• লাইফবোট (১৯৪৪)
• অ্যাডভেঞ্চার ম্যালগেইচ (১৯৪৪)
• বন ভয়েজ (১৯৪৪)
• স্পেলবাউন্ড (১৯৪৫)
• নটরিয়াস (১৯৪৬)
• দ্য প্যারাডাইন কেইস (১৯৪৭) রোপ (১৯৪৮)
• আন্ডার ক্যাপ্রিকর্ন (১৯৪৯)
• স্টেইজ ফাইট (১৯৫০)
• স্ট্রেঞ্জার্স অফ এ ট্রেইন (১৯৫১)
• আই কনফেস (১৯৫৩)
• ডায়াল এম ফর মার্ডার (১৯৫৪)
• রেয়ার উইন্ডো (১৯৫৪)
• টু ক্যাচ আ থিফ (১৯৫৫)
• দ্য ট্রাব্ল উইথ হ্যারি (১৯৫৫)
• দ্য ম্যান হু নু টু মাচ (১৯৫৬)
• দ্য রং ম্যান (১৯৫৬)
• ভার্টিগো (১৯৫৮)
• নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট (১৯৫৯)
• সাইকো (১৯৬০)
  • দ্য বার্ডস (১৯৬৩)
  • মেরিন (১৯৬৪)
  • টর্ন কার্টেইন (১৯৬৬)
  • টোপাজ (১৯৬৯)
  • ফ্রেঞ্জি (১৯৭২)
  • ফ্যামিলি প্লট (১৯৭৬)

লিখেছেন- এম ইউ হাসান